বিদেশ থেকে ১৪ কোটি রুপির উপহার নিয়েছিলেন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি গত তিন বছরে বিভিন্ন দেশ থেকে ১১২টি মূল্যবান উপহার নিয়েছেন। এর মধ্যে ৫২টি উপহার নিতে একটি পয়সাও খরচ করেননি তারা। বাকিগুলোও পেয়েছেন নামমাত্র দামে।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা এপিপির বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইমরান-বুশরার পাওয়া উপহারগুলোর বাজারমূল্য পাকিস্তানি মুদ্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপির বেশি হলেও এর জন্য তারা খরচ করেছেন মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ রুপি।

পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, সরকারি পদে থাকাকালীন উপহার পাওয়া সব জিনিস সরকারি কোষাগারে জমা করতে হয়। কিন্তু ইমরান সে নিয়ম মানেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। পিটিআইয়ের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ঢোকা উপহারের তালিকা পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছিল। বলা হতো, এসব তথ্য সামনে আনলে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। তবে কর কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য গোপন করায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ইমরান প্রশাসনকে।

এপিপির হাতে যাওয়া নথিতে দেখা যায়, ইমরান ও বুশরার বিদেশি উপহারগুলোর মধ্যে সাতটি বিলাসবহুল রোলেক্সসহ অন্যান্য দামি ঘড়ি থেকে শুরু করে স্বর্ণ ও হীরার গহনা, একাধিক নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি, হীরার চেইন, লক্ষাধিক রুপির দামি কলম, কাফলিংক, ডিনার সেট, পারফিউম প্রভৃতি রয়েছে।

তাদের সবচেয়ে দামি উপহারটি দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সৌদি সফরে গিয়ে এই উপহার পেয়েছিলেন ইমরান। তবে সাড়ে আট কোটি রুপির গ্র্যাফ হাতঘড়িটি পেতে পিটিআই নেতা পরিশোধ করেছিলেন মাত্র দুই কোটি রুপি।

এর আগে, পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার পূর্বসূরি ইমরান খানের বিরুদ্ধে সরকারি কোষাগার থেকে ১৪ কোটি রুপি মমূল্যের উপহার দুবাইয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এসব উপহারের মধ্যে হীরার গহনার সেট, ব্রেসলেট ও দামি হাতঘড়ি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিতর্কের জবাবে ইমরান খান বলেছেন, ‘মেরা তোফা, মেরি মার্জি’। গত ১৮ এপ্রিল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, এগুলো আমার উপহার ছিল। সুতরাং সেগুলো রাখবো কি না তা আমার ব্যাপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.